Oct 9, 2025

বদ নজর কীভাবে মানুষের ক্ষতি করে ও ইসলামিকভাবে এর প্রতিকার

 বদ নজর কী?

“বদ নজর” (আরবি: আল-আইন) অর্থ হলো কারো দৃষ্টির মাধ্যমে অন্য কারো উপর এমন প্রভাব পড়া, যা তার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সহজভাবে বললে, কারো হিংসা, ঈর্ষা বা অতিরিক্ত প্রশংসা থেকে তার চোখের প্রভাব অন্যের জীবনে ক্ষতি আনতে পারে যেমন অসুস্থতা, মানসিক কষ্ট, কাজের ব্যর্থতা ইত্যাদি।

কুরআন ও হাদীসে প্রমাণ

🕋 কুরআনে:

وَإِن يَكَادُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَـٰرِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا۟ ٱلذِّكْرَ

“আর যারা কাফির তারা যখন কুরআন শোনে, তখন প্রায় তোমাকে তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়।”

— (সূরা কলম ৬৮:৫১)

এই আয়াত থেকে ইঙ্গিত মেলে যে চোখের দৃষ্টিতেও ক্ষতির প্রভাব থাকতে পারে।

🤍 হাদীসে:

 রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

“বদ নজর (আল-আইন) বাস্তব। যদি কিছু পূর্বনির্ধারিত তাকদিরকে অতিক্রম করতে পারত, তাহলে সেটি হতো বদ নজর।”

— (সহিহ মুসলিম: ২১৮৮)

আরেক হাদীসে তিনি বলেছেন:


“যখন তোমরা কারো মধ্যে এমন কিছু দেখো যা তোমাদের ভালো লাগে, তখন তার জন্য বরকত কামনা করো (বলো ‘بارك الله’ বা ‘মাশা আল্লাহ’)।”

— (ইবনে মাজাহ: ৩৫০৯)

💥 বদ নজরের ক্ষতির ধরন

ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী বদ নজর:

কারো স্বাস্থ্য নষ্ট করতে পারে (হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া)

আর্থিক ক্ষতি বা কর্মে ব্যর্থতা আনতে পারে

মানসিক অস্থিরতা, অশান্তি, বা পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ তৈরি করতে পারে

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও এটা হতে পারে — যেমন হঠাৎ কান্না, ঘুম না আসা ইত্যাদি

🌙 বদ নজর থেকে বাঁচার উপায় (ইসলামিক দৃষ্টিতে)

১️⃣ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া

প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এই দু’টি সূরা পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

সূরা আল-ফালাক (১১৩)

সূরা আন-নাস (১১৪)

“বদ নজর কীভাবে মানুষের ক্ষতি করে ও ইসলামিকভাবে এর প্রতিকার”👉 নবী ﷺ প্রতিদিন সকালে ও রাতে তিনবার করে পড়তেন।

২️⃣ সূরা আল-বাকারা পাঠ করা

নবী ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি নিজের ঘরে সূরা আল-বাকারা পাঠ করবে, সেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না।”

— (সহিহ মুসলিম)

৩️⃣ দু’আ ও যিকির

প্রতিদিনের সকালে ও রাতে এই দো’আগুলো পড়া নিরাপত্তা দেয়:

بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ...

আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা ২:২৫৫)

শেষ দুই আয়াত সূরা বাকারা (২:২৮৫-২৮৬)

৪️⃣ প্রশংসা করার সময় “মাশা আল্লাহ” বলা

যখন কারো কিছু ভালো লাগে (সৌন্দর্য, ধন, সন্তান, সাফল্য), তখন বলা উচিত:

 🌿 “مَا شَاءَ اللهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ”

অর্থ: “আল্লাহ যা চেয়েছেন, তাই হয়েছে। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।”

৫️⃣ নজর লাগলে রুকইয়া (Ruqyah) করা

যদি মনে হয় বদ নজর লেগেছে, তাহলে:

কুরআনের আয়াত ও দো’আ পড়ে ফুঁ দাও

সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা পান করা বা শরীরে মাখা

বিশ্বাস রাখতে হবে, শিফা শুধুমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে

🕊️ সংক্ষেপে:

বিষয় ইসলামিক নির্দেশনা

বদ নজর বাস্তব? হ্যাঁ, হাদীস ও কুরআনে প্রমাণিত

এর প্রভাব শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি

প্রতিকার কুরআন পাঠ, দো’আ, যিকির, মাশা আল্লাহ বলা

ভরসা শুধু আল্লাহর উপর