বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে গৃহীত হচ্ছে। এই দিনে শুধু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না, বরং একই দিন গণভোট (Referendum)-ও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জনমতের মাধ্যমে **জাতীয় সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট পড়বে।
🗳️ ১. কোন নির্বাচন করা হবে?
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন ৩০০টি সংসদীয় আসনে ভোটারদের দ্বারা নতুন এমপি (Member of Parliament) নির্বাচিত করবে। ভোট শুরু হবে সকাল ৭:৩০টা থেকে বিকেল ৪:৩০টা পর্যন্ত এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাধারণ প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের জন্য ইলেকশন পরিচালিত হবে।
এটি ২০২৪ সালের গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন।
🗳️ ২. সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোটও একই দিনে
এবারের নির্বাচন শুধু এমপি নির্বাচনের জন্য সীমাবদ্ধ থাকছে না। একই দিনে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে যেখানে ভোটাররা প্রশ্নের উত্তর দেবেন হ্যাঁ বা না হিসেবে। এই গণভোটে ভোটারদের সামনে থাকবে “জুলাই ন্যাশনাল চার্টার (July Charter)” বাস্তবায়নের বিষয়—যে চার্টারটি ২০২৫ সালে সংবিধান সংস্কারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হলে চার্টারে থাকা সাংবিধানিক সংস্কারের কিছু মূল প্রস্তাব—যেমন:
-
নির্বাচন কমিশনকে অধিক স্বাধীন ও শক্ত করা
-
শাসক ক্ষমতার ভারসাম্য ও নির্বাহী ক্ষমতা সীমিতকরণ
-
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বৃদ্ধি
-
নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো
-
সংসদে নতুন কাঠামো (যেমন উচ্চকক্ষ/বিপরীত প্রতিনিধি ব্যবস্থা)
জাতীয় রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে।
গণভোটে যদি মানুষ হ্যাঁ ভোট বেশি দেয়, তাহলে এই সংস্কারগুলো ধাপে ধাপে কার্যকর হবে এবং একটি “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” গঠিত হবে, যারা নতুন সংবিধান সংশোধনের কাজ করবে।
🗳️ ৩. ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সময়সূচী
এই নির্বাচনে মোট প্রায় ১২৭ মিলিয়ন (১২.৭৬ কোটি) ভোটার অংশ নিতে পারবে, যারা দেশব্যাপী ৪২,০০০-এর বেশি ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোট দেবে।
নির্বাচনের তফসিল-এর সূচনাটা ছিল—
✔️ মনোনয়নের শেষ তারিখ: ২৯ ডিসেম্বর
✔️ মনোনয়নপত্র যাচাই: ৩০ ডিসেম্বর – ৪ জানুয়ারি
✔️ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষ: ২০ জানুয়ারি
✔️ প্রচারণা শুরু: ২২ জানুয়ারি
✔️ ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি
এভাবে নির্বাচনের সময়সূচী ঠিক রাখার কারণে ভোটারদের জন্য প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ছে।
🗳️ ৪. কেন এই নির্বাচন ও গণভোট গুরুত্বপূর্ণ?
এই নির্বাচন:
-
বাংলাদেশে বহুদিন পরে একটি সংগ্রামী ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে।
-
বহু রাজনৈতিক দল, নতুন রাজনীতিক ও জনগণ সচেতন হয়ে ভোটারদের অধিকার প্রয়োগ করবে।
-
একই দিনে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ থাকছে—যা দেশের ভবিষ্যৎ কাঠামোকে বদলে দিতে পারে।
এটি শুধু রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়—এটি জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যেমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম।
🗳️ ৫. ভোটারদের করণীয়
✔️ ভোটারের অবশ্যই ভোটার তালিকায় নিজের নাম নিশ্চিত করতে হবে।
✔️ ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের ঠিক সময় ও স্থান মনোযোগ দিয়ে জানতে হবে।
✔️ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদানে অংশ নিতে হবে।
✔️ গণভোটে হ্যাঁ বা না ভোট দিয়ে নিজের মতামত জানাতে হবে—যা সংবিধান সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
📌 শেষ কথা
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক দিন হবে—কারণ দেশ এক সাথে দেশের সরকার গঠনের জন্য সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোট উভয়ে অংশ নেবে। এটি গণতন্ত্রের একটি বড় পরীক্ষার দিন, যেখানে ভোটারদের সচেতন ও দায়িত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎকে নির্ধারণ করবে।
