Jun 25, 2020

সিলেটী পরিচয় ও ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট: সমস্যা ও সচেতনতা

সিলেটী পরিচয় সংক্রান্ত ডিজিটাল হ্যারাসমেন্টের সমস্যা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ে চিত্র
চুলকানি এমন একটা যন্ত্রনা যার হয় সে ভালোই  জানে,যতই চুলকাবেন ততই আরাম লাগবে। কিন্তু সমস্যা আরও ভয়াবহ যতই চুলকাবেন একসময় দেখবেন শরীরে আর কোনো জায়গা সুস্থ নেই  সব জায়গা দিয়ে রক্ত পড়ে আরও ভয়াবহ অবস্থা। বরং মনের আবেগ থেকে না চুলকাইয়া জায়গা মতো ঔষদ দেন বরং দেখবেন ভালো  হয়ে গেছেন, সুস্থ বুদ্ করতেছেন । আমি আসলে যে যে কথাটি বলতে চাচ্ছি আপনারা আমার শিরোনাম দেখে অবশ্যই বুজতে পারছেন। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জন্য একটা ভালো দিক হলেও কিছু মানুষ, সম্প্রদায় এটাকে একটা যন্ত্রনার  বস্তু বানিয়ে ফেলেছে যা রীতি মতো আমাদের জন্য পীড়াদায়ক। যা এখানে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেত।,আমি সে দিকে যেতে চাই না। 
facebook এ যারা আছেন তারা লক্ষ্য করেছেন বেশ কয়েক বার আমাদের সিলেটী নিয়ে বাজে মন্তব্য করা হয়েছে। অনেক আগেও  আমরা বিশিষ্ট জনের মুখ থেকে এরকম কথা শুনেছি। সময়ে সময়ে আমাদের সিলেটের পক্ষথেকে প্রতিবাদ করা হয়েছে। কিন্তু এর মাত্রা দিন দিন আরোও  বেড়ে চলেছে এ বিষয়ে আইনি কোনো ব্যবস্তা নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের চোখে পড়েনি। 
আমরা দেখতে পাই ডিজিটাল নিরাপত্তা নামে  কত কিছু হচ্ছে, সরকারের সমালোচনা করলে বা প্রধান মন্ত্রী সম্পর্কে কিছু বল্লেই ২৪ ঘন্টার  মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের  সিলেটের এত বড়ো  সপ্রদায় পৃথিবী ব্যাপী রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে  কটূবাক্য বলেই যাচ্ছে একের পর এক। আমরা  যেন দেখেও না দেখার ভান করেই যাচ্ছি। আমাদের সকলের এ বিষয়ে আরোও সজাগ হওয়া প্রয়োজন নয়কি ?
প্রধান মন্ত্রী  শেখ হাসিনা  ভালোই করে জানেন  তিনির দুর্দিনে কারা তিনির পাশে ছিল। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্তা  না নিলে এভাবেই এর মাত্রা আরো ও বাড়তে বাড়তে আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে যাবে তাতে কোনো  সন্দেহ নাই। সরকারের এ বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন বলে আমরা সকলে মনে করি।

আমি একজন সিলেটী  বলে আমার এলাকা নিয়ে  আত্মঅহংকার করতে চাই না। অন্য জেলা নিয়ে আমি কোনো ধরণের কটূক্তি করতে চাই না বা করার করার প্রয়োজন ও মনে করি না। যার যার এলাকা হিসাবে তার কাছে সেটাই সেরা কেউ তার জন্ম স্থানকে ছোট  হিসাবে দেখতে চাইবে না। এক কথায় বলতে গেলে আমরা  সবাই বাংলাদেশী। এদেশের জন্য আমাদের সকলের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। 

তারপরও যদি  সিলেটের সার্বিক বিষয়ে জরিপ করলে সিলেটের পারদ নিঃসন্দেহে উচ্ছে অবস্থান করবে।৩৬০ আউলিয়ার পুন্য ভূমি ধর্মীয় মুল্যবোধ ,মানবতাবোধ, ভাতৃত্ববোধ দেশে বিদেশে সমাদৃত। 
এখানে বহুমতের রাজনৈতিক দল রয়েছে ডান, বাম, মধ্য পন্তি, কট্টর পন্তি , ইসলামিক কিন্তু সব শেষে 
সবাই এক কাতারে , কেউ কারও প্রতি হিংসাত্মক বা আক্রমণাত্মক অবস্তানে যেতে দেখিনি। যুগ যুগ ধরে আমাদের এই সংস্কৃতি চলে আসছে , যেটা আমাদের অহংকার বটে। আমি নাম উল্লেখ করতে যাচ্ছি না  এখানে জন্মেছেন বড়ো বড়ো  রাজনৈতিক বাক্তিত্ত, বুদ্ধিজীবী , সুফী, সাধক , আউল ,বাউল , দরবেশ,বিদেশে রয়েছেন সাধারণ শ্রমজীবী থেকে এম পি , মন্ত্রী ,বিজ্ঞানী থেকে নাসা পর্যন্ত। কোনটা  রেখে কোনটা বলি এই  ছুট্ট পরিসরে। আর ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক , সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এক নান্দনিক ভূমি, একথা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবেন। সিলেট থেকে সরকার যে সিংহ ভাগ রাজস্ব পেয়ে থাকেন তার কি ৩০% আমরা পাই, আর যদি আসে তাও কি পরিমান পাই আল্লাহ ভালোই জানেন। 

 দুঃখ প্রকাশ করছি স্বল্প পরিসরে আরও কিছু লিখতে না পারার জন্যে। তবে তাই হউক আমাদের ব্রত....

“ শুনহে হে মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই ”

                                                                                                        জয়নুল ইসলাম খান 
                                                                                                               সিলেটী